ইবি প্রতিনিধি
পবিত্র রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি উপলক্ষে সিরাতুন্নবী (সা.) উদযাপনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) আরবি রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যারাবিক ক্লাব। প্রতিযোগিতায় পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা করে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে সনদপত্র দেওয়া হয়। সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুর ১টায়
বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবনের ৩০৩ নম্বর কক্ষে প্রতিযোগিতার ফলাফল প্রকাশ, সনদ ও পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অ্যারাবিক ক্লাবের সভাপতি আমির ফয়সালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম এবং অ্যারাবিক ক্লাবের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ কে এম শামছুল হক ছিদ্দিকী। এ ছাড়া বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, ক্লাবের সদস্য ও প্রতিযোগীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নুরুল হাসান নাবিল প্রথম স্থান অর্জন করেন। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের উম্মে সাদিয়া জাহান নিশা দ্বিতীয় এবং একই শিক্ষাবর্ষের মো. আল আমিন তৃতীয় স্থান অধিকার করেন। চতুর্থ ও পঞ্চম স্থান অর্জন করেন যথাক্রমে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের আনসারুল হক ও মো. আইমান হোসাইন সাকিব। প্রথম স্থান অর্জনের অনুভূতি প্রকাশ করে মো. নুরুল হাসান নাবিল বলেন, “এ ধরনের প্রতিযোগিতা আমাদের জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি আরবি ভাষা ও মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ সম্পর্কে গভীরভাবে জানার সুযোগ করে দেয়। প্রথম স্থান অর্জন করতে পেরে আমি আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনে অংশগ্রহণ করে নিজের জ্ঞান ও দক্ষতা বিকাশ করতে চাই।” আরবি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চাকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে অ্যারাবিক ক্লাবের সভাপতি আমির ফয়সাল বলেন, “আরবি ভাষা ও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পবিত্র রবিউল আউয়াল মাসে সিরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এ রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, “রবিউল আউয়াল আমাদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাস। এ মাসে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন ও আদর্শ সম্পর্কে নতুন করে জানার এবং তা নিজেদের জীবনে ধারণ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনাদর্শের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরবি ভাষা ও ইসলামী ঐতিহ্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে অ্যারাবিক ক্লাব ভবিষ্যতে আরও গঠনমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে—এটাই প্রত্যাশা।”